তবে এখনো পর্যন্ত জেলা কমিটি নিয়ে সেভাবে কোন রকম বিক্ষোভ বা প্রতিরোধ দেখা যায়নি বনগাঁ জেলাতে।
কিন্তু একটা জিনিস চরমভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সেটি হল, বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার উপর সমস্ত কর্মী সমর্থকরা যেভাবে রেগে আছে , সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি এই জেলাতে যেভাবে চরম গ্রুপ বাজি তৈরি করেছেন এই ট্রেড ইউনিয়ন সেল এর মাধ্যমে, সেটার কারণেই প্রত্যেকটি মন্ডলে মন্ডলে তার উপর ক্ষেপে আছে বিজেপির পুরনো কর্মী সমর্থকরা।
তার অনুগামীদের একটাই কথা , আমরা বিজেপির লোক না আমরা অশোক কীর্তনীয়ার লোক।
বনগাঁ উত্তর বিধানসভার যে সমস্ত পুরনো বিজেপির কার্যকর্তারা তাদের কারো সঙ্গে সৎ্ভব রেখে চলেন না তিনি। জেলার প্রাক্তন সহ-সভাপতি জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ, প্রাক্তন জেলার সভাপতি দেবদাস মন্ডল, প্রাক্তন জেলার সাধারণ সম্পাদক দেবর্ষি বিশ্বাস, যুবনেতা গোবিন্দ বিশ্বাস, বাগদা বিধানসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী বিনয় বিশ্বাস, এমনকি প্রাক্তন মন্ডল সভাপতি কারোর সঙ্গেই সেভাবে সৎ ভাব নেই অশোক কীর্তনীয়ার।
তিনি সংগঠনের তোয়াক্কা না করে , বিভিন্ন বুথ সভাপতি, শক্তিপুঞ্জের প্রমুখ নিজের ইচ্ছামত পরিবর্তন করার দুঃসাহস দেখাচ্ছেন।
দল যদি তাকে পুনরায় টিকিট দেয় দলের মধ্যেই চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বনগাঁ উত্তর বিধানসভায়। এমন কি দুই তিন জন নির্দল প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যেটা কিনা দলের কাছে একটা মাথা যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
বনগাঁ উত্তর বিধানসভার ইলেকশন কনভেনার করা হয়েছে এমন একজনকে , যিনি কিনা মাত্র কয়েক বছর হয়েছে দলে এসেছেন। অথচ এই বিধানসভায় অনেক পুরনো সষ্ক্রিয় কার্যকর্তা এখনো বর্তমান রয়েছে।
বনগাঁ জেলাতে যেভাবে বিজেপি বিধায়করা এবং এমপি সাংগঠনিক কাজে নাক গলিয়েছে তাতে বিজেপির সংগঠন তাসের ঘরের মতন অবস্থায় আছে।
জনপ্রতিনিধি হয়ে যেভাবে সাংগঠনিক কাজে নাক গলিয়েছে বনগাঁ জেলাতে তাতে বিজেপির অরিজিনাল কার্যকর্তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ভিতরে ভিতরে। সেটা বিজেপি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বুঝতে পারছে না, কিন্তু ভোটের ময়দানে এদেরকে না নামাতে পারলে ভরাডুবি হয়ে যাবে যতই হাওয়া থাকুক না কেন।
বনগাঁর ব্যবসায়ী মহলে অশোক কীর্তনীয়ার ইমেজ একেবারে নষ্ট হয়ে ধুলায় মিশে গেছে। তার কথা বলার ধরণ তাকে প্রতি মুহূর্তে ব্যাক ফুটে ঠেলে দিয়েছে। সে যত বেশি মাইকে বক্তব্য রেখেছে তত বেশি বনগাঁর ব্যবসায়ী মহলের কাছে নিজের ইমেজ খুঁইছে।
বনগাঁতে যদি একটা বুথ স্তরের কর্মীকে এনেও বিধানসভা ভোটে দাঁড় করানো হয় যায় তাহলে বিজেপি এখানে হাসতে হাসতে জিতে যাবে। কিন্তু বর্তমান বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া এখানে প্রার্থী হলে কর্মীদের বিক্ষোভ চরমে উঠতে পারে।
সেটা রাজ্য বিজেপিকে ভাবনায় ফেলে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয় বনগা উত্তর বিধানসভায় দল কাকে প্রার্থী করে। তবে সূত্রের খবর বনগাঁ উত্তর বিধানসভায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে হয়তো শুভজিৎ দাস কে প্রার্থী করা হতে পারে। তবে দৌড়ে প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের নাম ও আছে বলে শোনা যাচ্ছে।
বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে অশোক কীর্তনীয়ার পাশাপাশি, বিনয় বিশ্বাস, গোবিন্দ বিশ্বাস,দেবর্ষি বিশ্বাসের নাম শোনা যাচ্ছে।
No comments:
Post a Comment